ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্তে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের ঘটনা চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৩৫ শতাংশ কমেছে। তবে ভূমধ্যসাগরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসনপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় বাংলাদেশিরা শীর্ষ জাতীয়তার তালিকায় রয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইউরোপের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউর বহির্সীমান্তে প্রায় ৭৫ হাজার অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার শনাক্ত হয়েছে।
ফ্রন্টেক্স বলছে, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাস্থলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় ইউরোপমুখী নৌযাত্রা কমেছে। আগস্টে প্রায় ১০ হাজার ৭০০টি অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার শনাক্ত হয়, যা ২০২৫ সালের একই মাসের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম।
তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতা অঞ্চলে মানুষের ব্যাপক প্রবেশের ঘটনা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সীমান্ত অতিক্রমকারীদের বেশিরভাগই নিবন্ধন ছাড়াই মরক্কোতে ফিরে যাওয়ায় এ ঘটনার চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে ২৪ হাজার ২০০টির বেশি অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৫ শতাংশ কম। এ পথে আফগান, সুদানি ও বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল।
অন্যদিকে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০টি প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কম। এ পথে লিবিয়া প্রধান যাত্রাস্থল হিসেবে রয়েছে। শনাক্ত হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি, সোমালি ও আলজেরীয় নাগরিকদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় পথ দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ৯০০টি অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার শনাক্ত হয়েছে। প্রধান পথগুলোর মধ্যে এটিই একমাত্র রুট, যেখানে প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ পথে প্রবেশ ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকান পথ দিয়ে প্রায় ৫ হাজার ১০০টি প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। এ পথে আগের বছরের তুলনায় ৫৮ শতাংশ পতন হয়েছে, যা প্রধান অভিবাসনপথগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইউরোপে অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা কমলেও ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি কমেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ফ্রন্টেক্স বলছে, মানব পাচারকারী চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও চলাচলের অনুপযোগী নৌকায় মানুষকে সমুদ্রে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ফলে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবাহ কমলেও যাত্রাপথের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের প্রচেষ্টাও কমেছে। বছরের প্রথম আট মাসে এ ধরনের প্রায় ২৬ হাজার ৬০০টি প্রচেষ্টা শনাক্ত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কম।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক বিপিসি