নিজস্ব প্রতিনিধি:
গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আম্বানি পরিবারের আয়োজিত গণপতি উৎসবে হাজির হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানি। উৎসবের সাজে লাল লেহেঙ্গা, একই রঙের ব্লাউজ ও এক কাঁধে জড়ানো ওড়নায় অনুষ্ঠানে দেখা যায় তাকে। তবে উৎসবে দিশার উপস্থিতির চেয়ে তার পোশাক নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় আলোকচিত্রীদের সামনে পোজ দেন দিশা। পরে তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পোশাক নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন পোশাক কতটা মানানসই, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। কেউ কেউ আবার তারকারা ধর্মীয় আয়োজনকে ফ্যাশন প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করছেন কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আনেন।
২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীতে আম্বানি পরিবারের গণপতি উৎসবে দিশার পরনে ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ করা লাল ঘাগরা। সঙ্গে ছিল লাল ব্লাউজ, যার গলার কাট ছিল বেশ গভীর। এক কাঁধে জড়ানো লাল ওড়না, বড় দুল, চুড়ি ও খোলা চুলে উৎসবের সাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন অভিনেত্রী।
ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এক্সে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, গণপতি উৎসবের জন্য এমন পোশাক কতটা উপযুক্ত এবং সেখানে কোনো ড্রেস কোড থাকা উচিত কি না। আরেকজন প্রশ্ন তোলেন, গণেশ উৎসবের মতো আয়োজনে দিশার এই পোশাক আদৌ মানানসই কি না।
কেউ কেউ আরও কড়া মন্তব্য করে প্রশ্ন করেন, দিশা গণপতি উৎসবে গিয়েছিলেন, নাকি র্যাম্পে হাঁটতে। আবার এক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, গণেশ দর্শন ও পূজা ধর্মীয় উপলক্ষ; এটি কোনো নাইট ক্লাব, নাচের অনুষ্ঠান বা ফ্যাশন শো নয়। তাই এমন পোশাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
সমালোচকদের মূল বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকলেও ধর্মীয় আয়োজনের পরিবেশ ও সামাজিক প্রত্যাশার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দিশা পাটানি নিজে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
দিশাকে ঘিরে এই বিতর্কের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ আগে কৃতি শ্যাননকে ঘিরে তৈরি হওয়া একটি বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গয়না ব্র্যান্ড জিআইভিএর রক্ষাবন্ধন উপলক্ষে তৈরি একটি বিজ্ঞাপনে ব্রালেটধাঁচের ব্লাউজ, কেপ ও ড্রেপ করা স্কার্টে দেখা গিয়েছিল কৃতিকে। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাংশে সমালোচনা শুরু হলে পরে সেটি প্রত্যাহার করে নেয় জিআইভিএ।
ওই বিতর্কের পর কৃতি নিজের অবস্থান জানিয়ে বলেছিলেন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তার হৃদয়ে, গলার কাটে নয়।
এবার দিশার পোশাক নিয়ে বিতর্কও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে এনেছে—উৎসবের পোশাকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ ও ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে সামাজিক প্রত্যাশার সীমারেখা কোথায়?
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা