• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন হাফিজুল্লাহ খান দুর্যোগে পাশে থাকার অঙ্গীকার হাতিয়ার ৩০ স্বেচ্ছাসেবকের নোয়াখালীতে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের এক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন টিম্বারকে বিশ্রাম, ইপ্সউইচের বিপক্ষে আর্সেনালের দারুণ জয় সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোলের অপব্যবহার এবং ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ হাতিয়ায় সেই স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ পর্তুগালে শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্সে নতুন শর্ত পূর্ণিমার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, বয়স যেন শুধুই সংখ্যা

শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নার্সের বাসায় গোপনে ডিএনসি করানোর অভিযোগ, উত্তেজনা

আব্দুল লতিফ শেরপুর / ১৬৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

শেরপুরের শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক গৃহবধূকে ভুল বুঝিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে গোপনে ডিএনসি করানোর পর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূর নাম লাভনী আক্তার (২৬)।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত লাভনী আক্তার শ্রীবরদী উপজেলা উপজেলার খড়খড়িয়া তালুকদার বাড়ি গুণাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমানের স্ত্রী। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে শহরের কসবা কাঠঘর এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। মৃত্যুকালে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় লাভনীকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নার্স চম্পা ও কথিত দালাল মহসিনের প্ররোচনায় হাসপাতালের বিপরীতে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডিএনসি করানোর পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
নিহতের স্বামী ফল ব্যবসায়ী সাইদুল রহমান জানান, “মহসিন নামের একজন বলেছিল, চম্পা নামের এক নার্স কম খরচে ভালোভাবে ডিএনসি করতে পারবেন। পরে সকালে হাসপাতাল থেকে আমার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে একটি বাসায় ডিএনসি করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ডিএনসি করার পর জানতে চাইলে তারা বলে রক্ত লাগবে না। কিছু ওষুধ লিখে দেয় এবং ৬ হাজার টাকা নেয়। পরে স্ত্রীর শরীরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিকেলে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আমার স্ত্রী মারা যায়।”
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. নাবিদ আনজুম সিয়াম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “স্বজনদের কাছ থেকে জেনেছি, সকালে গাইনি বিশেষজ্ঞ দেখানোর আগেই রোগীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এক নার্সের বাসায় ডিএনসি করানো হয়।”
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাহেরাতুল আশরাফি বলেন, “ডিএনসি হাসপাতালের বাইরে হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে নার্স জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
এদিকে শেরপুর সদর থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় স্বজনদের কান্না, ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় দালাল চক্র রোগীদের বিভ্রান্ত করে বাইরে নিয়ে চিকিৎসার নামে ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category