তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে তাদের ভূমিকা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ আলোচনার আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এতে দেশের ভবিষ্যৎ, তরুণদের দায়িত্ব, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, দেশপ্রেম, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
আলোচনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তা, অভিজ্ঞতা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের করণীয় নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
ইমদাদুল হক মিলন বলেন, একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ সমাজ। তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে। তবে শুধু একাডেমিক সাফল্য অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের মতো মূল্যবোধ ধারণ করে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নানা চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি গুজব, অপসংস্কৃতি, অসহিষ্ণুতা ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে হবে। নিজেদের চিন্তা ও কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।
জাকারিয়া জামান বলেন, সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ বাড়াতে হবে। এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি হতে পারে তরুণ প্রজন্ম। তরুণরা নিজেদের মেধা ও শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ নয়, দেশের ভবিষ্যৎও বদলে দিতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, সামাজিক মূল্যবোধ, নেতৃত্ব, সংস্কৃতি, তরুণদের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। পরে ইমদাদুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের চিন্তাভাবনা ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক বিপিসি