নিজস্ব প্রতিবেদক:
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমায় রইছ চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা বিজয় চৌধুরী। তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত বাসায় থেকেই বিশ্রামে থাকতে হবে তাকে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল থেকে বিজয় চৌধুরীকে বাসায় নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী।
তিনি জানান, বিজয় চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো। তিনি এখন অল্প অল্প কথা বলতে ও নড়াচড়া করতে পারছেন। তবে এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন।
হাসপাতালের পিসিসিইউ থেকে বিজয় চৌধুরীকে কেবিনে স্থানান্তরের কথা ছিল। কিন্তু কেবিন খালি না থাকায় তাকে বাসায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তার ছেলে জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত পর্যাপ্ত ঘুম ও সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে বিজয় চৌধুরীকে। দুই দিন পর আবার হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তার হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে বিজয় চৌধুরীকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এক আত্মীয়ের দাওয়াতে সিংগাইরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে দ্রুত তাকে ঢাকায় এনে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তাকে পিসিসিইউতে রাখা হয়।
বিজয় চৌধুরী দর্শকের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ চরিত্রের জন্য। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত সিনেমাটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়।
সিনেমাটিতে রইছ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান বিজয়। বিশেষ করে ছবির শেষদিকে রইছের আত্মত্যাগের দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে গভীর আবেগ তৈরি করে। অভিনয়ের সময় তার বয়স ছিল ২২ বছর।
১৯৯৩ সালে পরিচালক রায়হান মুজিবের ‘প্রেমপ্রীতি’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় বিজয় চৌধুরীর। এরপর আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করলেও ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ চরিত্রই তাকে দর্শকের কাছে স্থায়ীভাবে পরিচিত করে তোলে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা