শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন

ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সংশয়

অনলাইন ডেস্ক । বিপিসি বাংলা
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত সম্ভাব্য ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র সংশয় ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিটিকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধী রাজনীতিকরা এর কার্যকারিতা, শর্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং তিনি আশা করেন সেটি সত্য হবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগেও এমন অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে অ্যাডাম শিফ বলেন, নতুন সংঘাতে জড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ বেড়েছে। তার মতে, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে জনগণের প্রত্যাশিত সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হয়েছে।

অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্য সেথ মল্টন সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিকে আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি কার্যত একটি আত্মসমর্পণের দলিলের মতো। তার দাবি, দীর্ঘ সংঘাত, বিপুল অর্থব্যয় এবং প্রাণহানির পর যে সমঝোতার কথা বলা হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো কৌশলগত সাফল্য এনে দেয়নি।

এক সাক্ষাৎকারে মল্টন বলেন, এই যুদ্ধে করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অথচ শেষ পর্যন্ত এমন একটি চুক্তির দিকে যাওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে এমন কিছু সুবিধা পুনরায় চালু করা হচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগেই বিদ্যমান ছিল। তার প্রশ্ন, এমন পরিস্থিতিকে কীভাবে বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।

অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেবে। তাদের মতে, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

তবে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কতটা কৌশলগত সুবিধা অর্জন করছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, শুধু যুদ্ধবিরতি বা সাময়িক উত্তেজনা হ্রাসকে সাফল্য হিসেবে দেখলে হবে না। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয়, জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকির বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।

দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য এই শান্তি চুক্তি ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীরা চুক্তির প্রকৃত লাভ-ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে কঠোর প্রশ্ন উত্থাপন করে চলেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category