নরসিংদী মডেল থানার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সারোয়ার হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। মামলা রুজুর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযানে জড়িত দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া বিভাটেক (মিশুক) গাড়ি ও এর ৪টি ব্যাটারি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সারোয়ার হোসেন (২২) নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দগাতী গ্রামের হাজি রহমানের ছেলে। তিনি নরসিংদীর টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে বিভাটেক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ১৩ জুন দুপুরে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরবর্তীতে ১৫ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী মডেল থানার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকায় মেঘনা শাখা নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে সারোয়ারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক-এর নির্দেশনায় নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে নরসিংদী এলাকা থেকে দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ আনোয়ার হোসেন (২৭) ও আশিক (২১)। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সারোয়ার হোসেনকে গলা কেটে হত্যা করে বিভাটেক গাড়ি ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আনোয়ার হোসেন বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও প্রদান করেছেন।
পুলিশ আরও জানায়, আসামীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত বিভাটেক গাড়ি এবং এর ৪টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতারে নরসিংদী জেলা পুলিশের তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
Leave a Reply