সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার শিবির নেতা হাসপাতালে

অনলাইন ডেস্ক । বিপিসি বাংলা
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ২৫ বার

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া বর্তমানে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের দাবি, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও নিজেকে অসুস্থ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডে অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টায় বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে চূড়ান্ত মতামত দেবে। সুস্থ প্রমাণিত হলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশের দাবি, ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে জিসান অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। গত ১১ জুন তিনি নিখোঁজ হওয়ার দাবি করেন এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক বিধবা নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, বিয়ের চাপের মুখে ১২ জুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার আগের রাতেই আত্মগোপনে চলে যান জিসান। পরে শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের দাবি করে তার পরিবার।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমদিকে জিসান স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিলেন। তবে ধর্ষণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—এ তথ্য জানার পর থেকেই তিনি চোখ খুলছেন না এবং অসংলগ্ন আচরণ করছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসান মিয়াসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য তিন আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জিসান মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category