একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বরেণ্য অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী আজাদ আবুল কালাম। বিশেষ করে প্রবাসীদের একাংশ তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ প্রতিবাদ জানিয়ে তৈরি করছেন মিমও।
সম্প্রতি ইতালির ভেনিসে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতাকর্মীদের এমন আচরণের প্রতিবাদে দেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই বাঁধনের পাশে দাঁড়ান।
এরই ধারাবাহিকতায় বাঁধনের প্রতি সংহতি ও ভালোবাসা জানিয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বক্তব্য দেন অভিনেতা ও টেলিভিশন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম। সেখানে একপর্যায়ে প্রবাসীদের উদ্দেশে ইউরোপে ‘কামলা খেটে চলে’—এমন মন্তব্য করেন তিনি। এরপরই তাঁর বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
প্রবাসীদের একাংশের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার ও দেশের জন্য অর্থ পাঠানো মানুষদের এভাবে সম্বোধন করা অসম্মানজনক। তাঁদের ভাষ্য, পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশে গিয়ে প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রম করেন এবং নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। দেশের অর্থনীতিতেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
এ কারণে একজন বরেণ্য অভিনেতার কাছ থেকে প্রবাসীদের নিয়ে এমন মন্তব্য তাঁরা প্রত্যাশা করেননি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। দেশে থাকা প্রবাসীদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের অনেকেও এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শোবিজ অঙ্গনের কয়েকজন শিল্পী ও কলাকুশলীও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
তাঁদের মতে, কোনো পেশাকেই অবজ্ঞা বা ছোট করে দেখা উচিত নয়।
এদিকে আজাদ আবুল কালামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করছেন। তাঁদের দাবি, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে। ফলে ভেনিসে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজাদ আবুল কালামের পক্ষেও অনেকে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অভিনেতা ইউরোপে থাকা সব প্রবাসীকে উদ্দেশ করে মন্তব্যটি করেননি; বরং আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের প্রসঙ্গেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
সব মিলিয়ে আজাদ আবুল কালামের মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিজের বক্তব্যের বিষয়ে আজাদ আবুল কালামের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক বিপিসি