বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার শুরু ২০২৭ সালে: শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক । বিপিসি বাংলা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ১০ বার

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম ২০২৭ সাল থেকে শুরু করা হবে এবং ২০২৮ সালে একাডেমিক সিলেবাস হালনাগাদ করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে শুধু পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা নয়, বিতর্ক, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি একাডেমিক কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডিনস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেছে ইউনেসকো কমিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। তিনি জানান, অতীতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার ধাপে ধাপে এ বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী বছর শিক্ষা খাতে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তা ৪ শতাংশ এবং পরে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শিক্ষাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রেখে যুগোপযোগী ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অতীত পরিস্থিতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, একসময় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেকে উপাচার্যের চেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা জাতির জন্য এবং শিক্ষার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই অবস্থা থেকে দেশ এখন বেরিয়ে এসেছে।

বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রগতির জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ারও সুযোগ পাননি বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান নেতৃত্বের মতো নেতৃত্ব বারবার পাওয়া যায় না।

শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উৎকর্ষ পুরস্কার, মানোন্নয়ন কর্মসূচি এবং গবেষণা সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন অনুষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডিনস অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category