কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রথমে গ্রামে সংঘর্ষ এবং পরে থানায় অভিযোগ দিতে এসে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের নাগেরচর গ্রামের দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকালে এ বিরোধের জেরে এক ভাই জামাল হোসেনের বাড়িতে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে ভুক্তভোগী শাহজাহান লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে তিতাস থানায় যান।
পুলিশ জানায়, অভিযোগ জমা দেওয়ার পর শাহজাহান ও তার স্বজনরা থানার সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সেখানে প্রতিপক্ষের লোকজন উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয় এবং থানার সামনেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
ওসি মমিরুল হক বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রথমে গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে অভিযোগ দিতে এসে থানার সামনেও দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং তিনজনকে আটক করেছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply