বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন

হরমুজকে মার্কিন বাহিনীর ‘কবরস্থান’ বানানোর হুমকি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক । বিপিসি বাংলা
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ৮ বার

মার্কিন নৌবাহিনীকে ‘জলদস্যু’ আখ্যা দিয়ে হরমুজ প্রণালিকে তাদের জন্য ‘কবরস্থান’ বানানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সচিব এবং সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ-নিরাপত্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে এমন মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মোহসেন রেজায়ি তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘একমাত্র জলদস্যু’ হিসেবে অভিহিত করেন যাদের কাছে বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। তিনি দাবি করেন, জলদস্যুদের মোকাবিলা করার এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা ইরানের পুরোপুরি রয়েছে। রেজায়ি আরও মনে করিয়ে দেন, মার্কিন বাহিনী যেন ইসফাহানে ধ্বংস হওয়া তাদের বিমানের কথা ভুলে না যায়। তার মতে, হরমুজ প্রণালি হবে মার্কিন আগ্রাসনের চূড়ান্ত সমাধি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে আবারও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তেহরান যদি কোনো ‘খারাপ আচরণ’ করে তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না। যদিও ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তাবের কথা তাকে জানানো হয়েছে, তবে তিনি এখনও সেটি বিস্তারিত দেখেননি। ট্রাম্পের এমন অবস্থান একদিকে সামরিক শক্তির প্রদর্শনী এবং অন্যদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার এক কৌশলী ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই প্রস্তাবে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। ইরান প্রস্তাব দিয়েছে যে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যদি নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং ইরান-লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবে তারা পরবর্তী এক মাস পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি।

এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে অনেক বিশ্লেষক একটি ‘নভেম’ বা পবিত্র ও আশাব্যঞ্জক সূচনার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, যা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে। তবে এর বিনিময়ে ইরান ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না এমন গ্যারান্টি এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি এবং লেবানন সীমান্তে লড়াই বন্ধের দাবিতে অনড় ইরান চুক্তির সময়সীমা দুই মাস থেকে কমিয়ে এক মাস করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। যদি এই ১৪ দফার ভিত্তিতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে পারমাণবিক কর্মসূচি ও নৌ-অবরোধ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এবং তেহরানের এই ‘পাল্টা-পাল্টি অবস্থান’ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category