• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন হাফিজুল্লাহ খান দুর্যোগে পাশে থাকার অঙ্গীকার হাতিয়ার ৩০ স্বেচ্ছাসেবকের নোয়াখালীতে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের এক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন টিম্বারকে বিশ্রাম, ইপ্সউইচের বিপক্ষে আর্সেনালের দারুণ জয় সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোলের অপব্যবহার এবং ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ হাতিয়ায় সেই স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ পর্তুগালে শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্সে নতুন শর্ত পূর্ণিমার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, বয়স যেন শুধুই সংখ্যা

ভালোবাসা আছে, প্রতিশ্রুতি নেই—এটাই কি ‘সিচুয়েশনশিপ’?

নিশাত  ইসলাম / ৩০ Time View
Update : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

র্তমান সময়ে প্রেমের সম্পর্কের ধরন বদলেছে অনেকটাই। একসময় সম্পর্ক বলতে প্রেম, বাগদান বা বিয়েকেই বোঝানো হতো।

কিন্তু এখন তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন একটি ধারণা—‘সিচুয়েশনশিপ’।

এটি এমন এক ধরনের রোমান্টিক সম্পর্ক, যেখানে দুজন মানুষ একসঙ্গে সময় কাটান, ঘনিষ্ঠ হন, কিন্তু সম্পর্কের কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় বা ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিশ্রুতি থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে ভালোবাসাও থাকে; কিন্তু প্রতিশ্রুতি থাকে না।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সিচুয়েশনশিপ দেখতে অনেকটা প্রেমের সম্পর্কের মতো হলেও এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো দায়বদ্ধতার অভাব।

এখানে কেউ কাউকে প্রেমিক বা প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় দিতে চান না, আবার পুরোপুরি বন্ধুও নন। তাই অনেকেই এটিকে ‘বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি, কিন্তু প্রেমের চেয়ে কম’ সম্পর্ক বলে থাকেন।

কীভাবে তৈরি হয় সিচুয়েশনশিপ?

সিচুয়েশনশিপ সাধারণত তখনই তৈরি হয়, যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে পছন্দ করেন, একসঙ্গে সময় কাটান বা ঘনিষ্ঠ হন, কিন্তু সম্পর্ককে কোনো নাম দিতে চান না। অনেক সময় একজন দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে যেতে প্রস্তুত থাকেন না, আবার কেউ কর্মজীবন, পড়াশোনা বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে চান না।

এ অবস্থায় তারা সম্পর্ক চালিয়ে গেলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো অঙ্গীকার করেন না।এ ধরনের সম্পর্কে প্রায়ই দেখা যায়, দুজন নিয়মিত কথা বলেন, একসঙ্গে ঘুরতে যান, রোমান্টিক মুহূর্ত ভাগাভাগি করেন, কিন্তু সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, বিয়ে বা একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যান।

কিভাবে বুঝবেন আপনি সিচুয়েশনশিপে আছেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি লক্ষণ দেখে বিষয়টি বোঝা যায়—

সম্পর্কের কোনো নির্দিষ্ট নাম বা পরিচয় নেই।
ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি নেই।
একে অপরের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামাজিকভাবে সম্পর্কটি স্বীকৃত নয়।

একজন অন্যজনের প্রতি আবেগী হলেও সম্পর্কের দায়িত্ব নিতে চান না।
সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিভ্রান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে।

সিচুয়েশনশিপের ইতিবাচক দিক

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সব ক্ষেত্রে সিচুয়েশনশিপ ক্ষতিকর নয়। যদি দুজনের প্রত্যাশা একই হয় এবং উভয়েই সম্পর্কের সীমা সম্পর্কে পরিষ্কার থাকেন, তাহলে কিছু সুবিধাও থাকতে পারে।

নিজের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়।
দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির চাপ ছাড়াই সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
ব্যক্তিস্বাধীনতা বজায় রেখে একাকিত্ব কিছুটা দূর করা সম্ভব।
জীবনের ব্যস্ত সময়ে কম দায়বদ্ধতার সম্পর্ক অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক হতে পারে।কোথায় তৈরি হয় সমস্যা?

সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন একজন সম্পর্কটিকে ভবিষ্যতের দিকে নিতে চান, কিন্তু অন্যজন তা চান না। এতে হতাশা, মানসিক কষ্ট, নিরাপত্তাহীনতা ও আত্মসম্মানে আঘাত লাগতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী সুজান আলবার্সের মতে, সম্পর্কে দুই পক্ষের প্রত্যাশা এক না হলে সিচুয়েশনশিপ সহজেই বিষাক্ত সম্পর্কে পরিণত হতে পারে। একজন যদি সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করেন আর অন্যজন শুধু মানিয়ে চলেন, তাহলে মানসিক চাপ আরো বেড়ে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সব সময় সম্পর্ক নিয়ে দুশ্চিন্তা, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, উদ্বেগ, হতাশা এবং একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

টিন্ডারের ডেটিং বিশেষজ্ঞ ডেভিন সিমোন বলেন, এমন সম্পর্কের টানাপড়েন অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে মাদকের আসক্তির মতো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে।

কিভাবে বেরিয়ে আসবেন?

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন—

সম্পর্কের বাস্তবতা মেনে নিন।
নিজের চাওয়া-পাওয়া ও প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে জানিয়ে কথা বলুন।
আত্মসম্মানকে গুরুত্ব দিন।
নিজের মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দিন।
সম্পর্ক শেষ হলে বারবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সঙ্গীকে অনুসরণ না করাই ভালো।
ভবিষ্যতের সম্পর্কে কী চান, তা আগে থেকেই পরিষ্কার করে নিন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্পর্ক যে ধরনেরই হোক না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্পষ্ট যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মান এবং উভয়ের সম্মতি। যদি দুই পক্ষ একই প্রত্যাশা নিয়ে সম্পর্কে থাকেন, তাহলে ভুল বোঝাবুঝি কম হয়। কিন্তু একজন যদি স্থায়ী সম্পর্ক চান আর অন্যজন শুধু পরিস্থিতিভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চান, তাহলে সেই সম্পর্ক দীর্ঘ মেয়াদে মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে।

তাই কোনো সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজের চাওয়া, সীমারেখা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্ক এমন হওয়া উচিত, যেখানে ভালোবাসার পাশাপাশি নিরাপত্তা, সম্মান, দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক আস্থাও থাকে।

নিশাত ইসলাম / অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category