প্রচণ্ড ঠান্ডা, ভয়, উত্তেজনা কিংবা আবেগঘন কোনো মুহূর্তে অনেকেরই হঠাৎ গায়ে কাঁটা দেয় বা শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ঘটনাকে ‘পাইলোইরেকশন’ বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, গায়ে কাঁটা দেওয়া মূলত স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমের ফল। ত্বকের নিচে থাকা কোষ পরিবেশের পরিবর্তন, ভয় বা উত্তেজনার সংকেত স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়। এরপর স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ত্বকের নিচের ক্ষুদ্র পেশিগুলোকে সংকুচিত করে।
প্রতিটি লোমকূপের গোড়ায় ‘অ্যারেক্টর পিলি’ নামে ক্ষুদ্র একটি পেশি থাকে। এই পেশি সংকুচিত হলে লোমগুলো খাড়া হয়ে যায় এবং আশপাশের ত্বক ফুলে ছোট ছোট দানার মতো দেখা যায়। এ অবস্থাকেই সাধারণভাবে ‘গায়ে কাঁটা দেওয়া’ বলা হয়।
ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের তাপ ধরে রাখতেও এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লোম খাড়া হলে ত্বকের ওপর পাতলা একটি বায়ুস্তর তৈরি হয়, যা শরীরের তাপ দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যেতে বাধা দেয়। যদিও মানুষের শরীরে লোম তুলনামূলক কম হওয়ায় এর কার্যকারিতা সীমিত, তবু এটি বিবর্তনের একটি প্রাচীন বৈশিষ্ট্য হিসেবে রয়ে গেছে।
শুধু ঠান্ডা বা ভয় নয়, প্রিয় কোনো গান শোনা, আবেগপূর্ণ দৃশ্য দেখা কিংবা হঠাৎ তীব্র আনন্দ বা শিহরণ অনুভব করলেও গায়ে কাঁটা দিতে পারে। এ সময় শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে গায়ে কাঁটা দেওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। তবে এটি যদি কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার ঘটে বা অন্য শারীরিক উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা