চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরিফের দুই পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওমরাহ যাত্রীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিবন্ধনবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওমরাহর ব্যবস্থা করার কথা বলে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যাত্রী পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘এসবি ওভারসিজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওমরাহ যাত্রী পাঠানোর কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও পরে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী ওমরাহ কাফেলার প্রধান মাওলানা মো. গোলাম মাওলা জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৬৫ জন ওমরাহ যাত্রীর জন্য তিনি প্রায় ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাম্মাদ ও মিশকাত চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে যাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানো হয়নি। পরে তিনি ভিসা ও বিমান টিকিট যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে জানতে পারেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে হাম্মাদ চৌধুরী ২০ লাখ ও ২৫ লাখ টাকার দুটি চেক দিলেও ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকগুলো ডিজঅনার হয়। পরে তিনি ঢাকার আদালতে চেক ডিজঅনারের দুটি মামলা দায়ের করেন। তবে নির্ধারিত শুনানিতে অভিযুক্ত আদালতে হাজির হননি বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী কুমিল্লার মুরাদনগরের নছরুল্লাহ হুসাইন অভিযোগ করেন, ১৭৬ জন ওমরাহ যাত্রীর ভিসা ও টিকিট বাবদ হাম্মাদ, মিশকাত ও ইয়াহিয়া চৌধুরীর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ৭৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া হলেও সেটিও কার্যকর হয়নি। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লার আদালতে দুটি মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু তারা নন, দেশের বিভিন্ন জেলার আরও বহু মানুষ একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ফলে অনেকের ওমরাহ পালনের স্বপ্ন ভেঙে গেছে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাম্মাদ চৌধুরী ও মিশকাত চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে তাদের বাবা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরী দাবি করেন, তার ছেলেরা প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিজেরাই পরিচালনা করেন। এ বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তার বিরুদ্ধে আনা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a Reply