বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা গ্রামে গৃহবধূ রিতা মজুমদার হত্যা রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা পূর্বপাড়া গ্রামের মোকলেছের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন এবং একই এলাকার ফরিদের ছেলে মো. শাওন মিয়া।
রোববার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাসুয়া, রক্তমাখা কাপড়, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২০ মে রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বিধান মজুমদার খাবার শেষে আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে একটি শব্দ শুনে বিধান মজুমদারের ঘুম ভাঙে। পরে স্ত্রীর চিৎকার শুনে তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন রিতা মজুমদার। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত ছিল।
ঘটনার পর জেলা পুলিশের নির্দেশনায় গাবতলী থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৪ মে রাতে শাওন মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আনোয়ার হোসেনের নাম প্রকাশ করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, আনোয়ার ও শাওন একসঙ্গে ধান কাটার কাজ করতেন। প্রায় ১০ দিন আগে আনোয়ার জানতে পারেন, রিতা মজুমদারদের বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা রয়েছে। এরপর তারা টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন। এ জন্য স্থানীয় বাজার থেকে দুটি নতুন হাসুয়া কেনেন আনোয়ার।
ঘটনার রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বাড়ির বাইরে ধান তোলার কাজে গেলে দুই আসামি গোপনে বাড়িতে ঢুকে গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। গভীর রাতে দরজায় শব্দ করলে রিতা মজুমদার টর্চলাইট নিয়ে বাইরে আসেন এবং আনোয়ারকে চিনে ফেলেন। এতে ভয় পেয়ে আনোয়ার হাসুয়া দিয়ে তার গলায় কোপ দেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানায় পুলিশ।
পরে দুই আসামি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া দুটি একটি বিলে কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেন। পুলিশের অভিযানে সেখান থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, নিহতের মেয়ে প্রার্থনা মজুমদার ও ছেলে বিশ্বজিৎ মজুমদার অভিযোগ করেন, ঘর থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি। এমনকি হত্যাকাণ্ডের কক্ষ থেকেও কিছু নেওয়া হয়নি। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।