পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নিয়ে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৮টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ৫টির ইজারা দেওয়া হলেও বাকি ৩টি হাট প্রত্যাশিত দর না পাওয়ায় ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে উন্মুক্তভাবে দরপত্র খুলে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নামে ইজারা ঘোষণা করা হয়।
ইজারা পাওয়া হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে আগানগর অস্থায়ী পশুর হাট, জিনজিরা বাজার হাট, হাসনাবাদ হাট, রোহিতপুরের নতুন সোনাকান্দা বড় হাট ও মিলিনিয়াম সিটি পশুর হাট। এসব হাটের ইজারা পেয়েছেন স্থানীয় বিএনপির পাঁচ নেতা।
তবে ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে অন্য কাউকে দরপত্রে অংশ নিতে দেননি। নির্ধারিত ব্যক্তিদের বাইরে কেউ যাতে টেন্ডার জমা দিতে না পারেন, সে জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় অনেক কম মূল্যে হাটগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর একই পাঁচটি হাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। অথচ এবার সেই একই হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে মাত্র ৯৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকায়। এতে সরকারের রাজস্ব কমেছে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা।
গত বছর আগানগর আমবাগিচা হাট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়া হলেও এবার সেটি ইজারা দেওয়া হয়েছে ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকায়। একইভাবে জিনজিরা বাজার হাট গত বছরের ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে কমে এবার ৭ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
হাসনাবাদ হাট, নতুন সোনাকান্দা বড় হাট ও মিলিনিয়াম সিটি পশুর হাটের ইজারার পরিমাণও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এদিকে গত বছর ইজারা দেওয়া রাজাবাড়ী, রসুলপুর ও খাড়াকান্দি হাটে এবার অর্ধেক মূল্যেও কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব হাট পরে খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে।
কেরানীগঞ্জের এনসিপি নেতা আল আমিন মিনহাজ অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারা কয়েকদিন ধরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থান নিয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এমনকি এনসিপির নেতাকর্মীরা টেন্ডার সিডিউল কিনতে গেলে তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে দরপত্র বাক্স খোলা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ দরদাতাদের নামেই হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
Leave a Reply