গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে একে একে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও কয়েকজন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সকালে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি, কঞ্চিবাড়ি ও পাশের ছাপড়হাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকায় একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ আক্রমণ চালায়। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
আহতদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ বুধবার নিজ বাড়িতে মারা যান শারমিন সুলতানা। এর আগে ৬ মে নন্দা রানী ও ফুলু মিয়া, ৮ মে রতনেশ্বর কুমার এবং ১২ মে আফরোজা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগেই কার্যকর কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান কর্মসূচি থাকলে এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো যেত। তাদের দাবি, শুধু পৌর এলাকায় নয়, ইউনিয়ন পর্যায়েও নিয়মিত কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন ছিল।
কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, কুকুরের আক্রমণে নাক, মুখ, কান ও চোখে গুরুতর ক্ষতি হওয়ায় এলাকায় ভয় আরও বেড়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার জানান, দীর্ঘদিন ভ্যাকসিন সংকট থাকাও পরিস্থিতি জটিল করেছে।
ঘটনার পর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ এলাকায় ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করেছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে পুরো উপজেলায় এই কার্যক্রম চলবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা ও টিকাদান অব্যাহত আছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকাতেও কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।