কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফের সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসমত উল্লাহ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পজুড়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল ৩টার দিকে ক্যাম্প-৮ এর বি ব্লকে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হাসমত উল্লাহ ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পের ব্র্যাক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ডান হাতে দুটি গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কর্মকর্তারা জানান, ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পুলিশ ও রোহিঙ্গা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নবী হোসেন বাহিনী নামে পরিচিত আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) এবং আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও)-এর মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর জেরে গত ৫ মে ক্যাম্প-৭ এ এআরও কমান্ডার কেফায়েত উল্লাহ হালিম নিহত হন। পরদিন ৬ মে ক্যাম্প-৮ এ এআরও সদস্যদের গুলিতে নিহত হন নবী বাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মোহাম্মদ কামাল প্রকাশ ও নুর কামাল।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ক্যাম্প-৮ পশ্চিম অংশে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র সদস্যের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক রোহিঙ্গা নেতা দাবি করেন, এআরও গ্রুপের সদস্যরা নবী হোসেন বাহিনীর আস্তানায় হামলা চালায়। এতে পুরো ক্যাম্প এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক সশস্ত্র সংঘর্ষ, হত্যা ও গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply