বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

পড়া না পারায় শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত, অবরুদ্ধ শিক্ষক

অনলাইন ডেস্ক । বিপিসি বাংলা
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পড়া না পারার অভিযোগে মো. তাছিন মুন্সী (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক বেত্রাঘাতের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়–এ এ ঘটনা ঘটে।

আহত মো. তাছিন মুন্সী মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চি এলাকার মো. সবুজ মুন্সীর ছেলে এবং বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযুক্ত মো. আহাদ হোসেন কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিদ্যালয়টির সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম ক্লাস চলাকালে পড়া না পারার কারণে শিক্ষক আহাদ হোসেন প্রথমে তাছিনকে ১০ থেকে ১৫টি বেত্রাঘাত করেন। পরে তাকে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে ফেলে লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। এ সময় সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপত্তার স্বার্থে লাইব্রেরি কক্ষে আটকে রাখেন।

সহপাঠী মো. সিয়াম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, পড়া না পারলে শিক্ষক সাধারণত দুইটি করে বেত মারতেন। তবে তাছিনকে বেশি মারধর করা হয়। পরে তাছিন প্রতিবাদ করলে শিক্ষক তাকে বেঞ্চের ওপর দাঁড় করিয়ে আরও মারধর করেন এবং পরে মেঝেতে ফেলে লাথি মারেন। বাধা দিতে গেলে অন্য শিক্ষার্থীদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষক আহাদ হোসেন বলেন, পড়া না পারার কারণে তিনি প্রথমে তাছিনকে মারেন। পরে শিক্ষার্থী তার মাকে নিয়ে গালাগাল করলে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। তবে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হবে বুঝতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং অনুতাপ প্রকাশ করেন।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা মুন্সী জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, খবর পেয়ে এসে তিনি ছেলের পিঠে একাধিক বেত্রাঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। কয়েকটি স্থান থেকে রক্তও বের হচ্ছিল বলে জানান তিনি। তার প্রশ্ন, “আমার ছেলের অপরাধ কি এত বড় ছিল যে তাকে এভাবে মারতে হবে?”

এ বিষয়ে মৌরাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. শাজাহান মণ্ডল বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সবাইকে আপাতত চলে যেতে বলা হয়েছে। যেহেতু অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে, তাই সবাইকে কিছু সময় অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, একজন শিক্ষকের পক্ষে এভাবে শিক্ষার্থীকে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে এবং আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন বলেও জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category