রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার শাহ আলী পাইকারী বাজার পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বাজার পরিদর্শনের সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা, ভাড়া ও চাঁদাবাজি নিয়ে তাদের অভিযোগ শোনেন।
পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও শাহ আলী কাঁচাবাজারের দোকানগুলো বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করছেন। এর ফলে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে নীরব চাঁদাবাজিও চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে কারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধে জামায়াত প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশে সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠিত থাকলেও বাজার পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির কথা বলতে চাইলেও তাদের চেপে রাখা হচ্ছে। তার ভাষায়, “আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না, আমাদের আশপাশের লোকেরাই করে, তাদের পরিচয় সবাই জানে।”
সংসদের শেষ অধিবেশনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা যদি চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে দেশে কেউ চাঁদাবাজির সাহস পাবে না। তিনি বাজার ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের প্রভাবের সমালোচনা করে বলেন, এতে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ ভোক্তা— সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে এসে পণ্য কিনতে গিয়ে মানুষকে অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে, যার পেছনে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এসময় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, সরকারিভাবে প্রতি স্কয়ার ফিটের ভাড়া ১৩ টাকা হলেও বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা নিজেরা ব্যবসা না করে দোকান এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় দিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এক বছর আগে টাকা জমা দেওয়ার পরও তারা দোকান বুঝে পাননি। ডিসি অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে বাজারে মাদক ও নীরব চাঁদাবাজির বিষয়টি তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ শুনে জামায়াত আমির বলেন, ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিতে হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সাধারণ মানুষের ওপর গিয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তারা কি এভাবে নীরবে চাঁদা দিয়েই যাবেন, নাকি প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। পরে তিনি বলেন, “সবাই প্রস্তুত হলে আমরাও প্রস্তুত আছি। সবাই মিলে প্রতিরোধ করবো।”
তিনি আরও বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের দুঃখ-কষ্টের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে এবং জনগণকে সংগঠিত করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
বাজার পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন মো. মোবারক হোসাইন, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং মাহফুজুর রহমান।
Leave a Reply