ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার প্রায় ২৯৭ দিন পার হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে সাজিদের সহপাঠীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও তালাবায়ে আরাবিয়ার নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বক্তারা হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সাজিদের বন্ধু উসামা বলেন, সাজিদের মরদেহ পুকুরে পাওয়া গেলেও ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীর এমন পরিণতি হবে না—তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করতে দ্রুত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাজিদ আবদুল্লাহর নামে হলের নামকরণ ও তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাসান অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসনের বিচার নিশ্চিত করার ন্যূনতম সদিচ্ছাও নেই। তার ভাষ্য, সাজিদ হত্যার বিচার না হওয়ায় ক্যাম্পাসে অপরাধীদের সাহস বেড়েছে, যার ফল হিসেবে পরবর্তীতে আরও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি প্রশাসনের সঙ্গে হত্যাকারীদের কোনো ধরনের যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, প্রশাসন হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। বরং আন্দোলন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকে ‘মীমাংসিত ইস্যু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসনের শামিল।
রাহাত অভিযোগ করেন, সাজিদ আব্দুল্লাহর নাম ব্যবহার করে কোনো আয়োজন করতে গেলেও আপত্তি তোলা হয়। তার দাবি, প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে সাজিদের স্মৃতি আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্যাম্পাসে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও প্রশাসন কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, সাজিদ হত্যার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা বিচার দাবি করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের গাফিলতির কারণে ভবিষ্যতে আবারও এমন ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতেরও আহ্বান জানান তারা।
Leave a Reply