চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রস্তুত করা প্রাথমিক তালিকা বাতিল ঘোষণা করেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি জানিয়েছেন, তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অনেক নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে খালিয়াজুরী উপজেলার নূরানীপুর গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতাকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের অনেক কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএনপি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, তালিকায় এমন অনেকের নাম এসেছে যারা প্রকৃত ক্ষতির শিকার নন। এ কারণে পুরো তালিকা পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব কৃষক সত্যিকার অর্থে ফসলহানির শিকার হয়েছেন এবং সহায়তা পাওয়ার যৌক্তিকতা রাখেন, তাদেরই নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব যাতে না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে তিনি জানান, আসন্ন ঈদের আগেই তাদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে তারেক রহমান ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হাওরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাবর বলেন, হাওরের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন করলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই কৃষি, যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ সব খাতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
Leave a Reply