ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৬ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় চার থেকে পাঁচটি হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের এক প্রভাবশালী নেতা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রিফাত মোল্লার অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই বুধবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল মালেক গাজী, শাহীন মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন ও মাহমুদ হাসান। আহত শাহীন মিয়াকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁকে কেরানীগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সাজ্জাদ হোসেনের চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
আহত আবদুল মালেক গাজী অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড একটি ছাত্রদল নেতার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা বাসস্ট্যান্ডে সক্রিয় ছিল, তাদের নিয়েই বর্তমানে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গ বাস কাউন্টারের ম্যানেজার বিশাল হোসেন বলেন, রিফাত মোল্লার অনুসারীরা প্রতিদিন বাসস্ট্যান্ডে এসে যাত্রীদের হয়রানি করতেন। বিষয়টি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছিল। বুধবার বিকেলে বাস কাউন্টারের কর্মীরা রিফাত মোল্লার লোকজনকে ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার পর তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শনে যান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রিফাত মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, রিফাত মোল্লা বিএনপির কেউ নন। তিনি আরও বলেন, কেরানীগঞ্জে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান হবে না এবং পুলিশকে দ্রুত মামলা নিয়ে রিফাত মোল্লাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা রিফাত মোল্লা। তিনি দাবি করেন, তাঁর লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা। থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাঁর ওপরও হামলা করা হয়। এর পেছনে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের এক প্রভাবশালী নেতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক কারণে একাধিক মামলায় জেলও খেটেছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকেলে একটি পক্ষ রিফাত মোল্লার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। পরে থানায় অভিযোগ করতে এলে রিফাত মোল্লার ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply