বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। হিজলা থানায় সদ্য যোগদানকারী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই ‘চিরুনি অভিযানে’ একের পর এক মাদক বিক্রেতা, সেবনকারী এবং বড় বড় মাদক সম্রাটরা গ্রেফতার হচ্ছে। পুলিশের এই কঠোর অবস্থানে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
সূত্রমতে, ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান যোগদানের পর থেকেই মাদক নির্মূলকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। তার নির্দেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনরাত বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে শুধু খুচরা বিক্রেতাই নয়, বরং যারা নেপথ্যে থেকে মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছিল, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি হাতে-নাতে মাদকসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তথ্যমতে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অনেককে তাৎক্ষণিক দণ্ড ও জরিমানা প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মো: মাসুম বেপারী সহ বেশ কয়েকজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর আওতায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
হিজলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিছু এলাকায় মাদকের অবাধ কেনাবেচার কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। পুলিশের বর্তমান তৎপরতায় মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে অথবা পুলিশের জালে ধরা পড়ছে। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ওসির এই সাহসী পদক্ষেপ আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।”
এ বিষয়ে হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই যুদ্ধ চলমান থাকবে। হিজলা উপজেলায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা তার প্রশ্রয়দাতার জায়গা হবে না। আমরা চাই একটি মাদকমুক্ত সুন্দর সমাজ। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা থাকলে হিজলা উপজেলাকে দ্রুতই শতভাগ মাদকমুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে। পুলিশ প্রশাসনের এমন কঠোর ও নিরলস পরিশ্রমের ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতি দৃশ্যমান হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকলে হিজলা হবে মাদকমুক্ত একটি আদর্শ উপজেলা।
Leave a Reply