প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–এর লেখা বলে দাবি করা একটি কথিত ‘সুইসাইড নোট’ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক। বুধবার প্রথমবারের মতো নথিটি জনসমক্ষে আসে।
নিউইয়র্ক সিটির মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টার–এ এপস্টেইনের সেলমেট নিকোলাস টারটাগ্লিওন জানান, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এপস্টেইনের প্রথম আত্মহত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি এই নোটটি পান। কয়েক সপ্তাহ পর কারাগারের কক্ষে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নোটটিতে লেখা ছিল, “তারা আমাকে নিয়ে মাসের পর মাস তদন্ত করেছে—কিন্তু কিছুই পায়নি!!! বিদায় নেওয়ার সময়টা নিজের মতো করে বেছে নিতে পারাটা দারুণ একটা ব্যাপার।” তবে চিঠিটিতে কোনো স্বাক্ষর ছিল না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চিঠিটি সত্যিই এপস্টেইনের লেখা কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মার্কিন বিচার বিভাগও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
গত সপ্তাহে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এই নোটের অস্তিত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে আদালতে আবেদনের পর নথিটির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
এপস্টেইনের সেলমেট নিকোলাস টারটাগ্লিওন একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে চার খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনিই প্রথম এপস্টেইনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে এপস্টেইন অভিযোগ করেছিলেন যে টারটাগ্লিওন তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কের মেডিকেল এক্সামিনার এপস্টেইনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করলেও, বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও বিতর্ক রয়ে গেছে।
Leave a Reply