যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য পেট্রোলের দাম কিছুটা বেশি দেওয়া বড় কোনো বিষয় নয়। একইসঙ্গে তিনি ইরানকে ‘অত্যন্ত দুষ্টু রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের সিদ্ধান্তেই খোলা ও বন্ধ হবে। যুক্তরাষ্ট্র ‘পরাজয়ের বাস্তবতা’ মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ কার্যক্রম চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বন্ধে আলোচনা পুনরায় শুরুর কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৪ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। শিপ-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান কপলারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এই নৌপথ অতিক্রম করেছে। সংঘাতের আগে প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করলেও এখন তা প্রায় বন্ধের পথে।
এ ছাড়া ইউকেএমটিও জানিয়েছে, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে একটি বাল্ক ক্যারিয়ারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লোহিত সাগরের মোচা বন্দরে চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা