পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য সবুজ ভবন ও জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং স্বল্প-কার্বন নকশার ব্যবহার কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশের সক্ষমতা বাড়াবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে টেকসই ভবন নির্মাণ : আরো সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল নির্মিত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত কর্মশালা’য় তিনি এসব কথা বলেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের প্রকল্প সেবাবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওপিএস)-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করে।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ২০৩৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশে নগরবাসীর সংখ্যা গ্রামীণ জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে।আর ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৫৬ শতাংশের বেশি মানুষ শহরে বসবাস করবে। তাই দ্রুত নগরায়ণ এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার প্রেক্ষাপটে টেকসই নির্মাণব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সবুজ নির্মাণকে আরো মানসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এইচবিআরআই ‘দেশ’ টেকসই ভবন লেবেলিং কাঠামো (ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশে সবুজ ভবন নির্মাণে কার্যকর নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ইউএনওপিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন, ইউএনওপিএস রোম লিয়াজোঁ অফিসের প্রতিনিধি ও প্রধান মার্টিন আরেভালো দে লেওন এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সেলিয়া মার্টিনেজ জুয়েজ।
প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, কর্মশালার সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে টেকসই ও সবুজ নির্মাণব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে।
জারা ইসলাম / অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা