শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে বেঁচে থাকার পথটা সহজ ছিল না মারিয়ার জন্য। প্রতিনিয়ত জীবনের সঙ্গে লড়াই করে চলা সেই অসহায় মেয়েটির মুখেই অবশেষে ফুটল স্বস্তির হাসি।ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের এক মানবিক উদ্যোগে বদলে গেছে দিনটি।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে নিজের অসহায় অবস্থার কথা জানান মারিয়া। ঘটনাটি শুনে কালক্ষেপণ না করে তার কথা মন দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক। বিষয়টি জানার পরপরই মারিয়াকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি।সেই সঙ্গে ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সহযোগিতা প্রদান শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু আমাদের প্রশাসনিক কাজ নয়, এটি একটি বড় মানবিক দায়বদ্ধতা। মারিয়ার মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ যাতে নিজেকে একা মনে না করে, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি। সাধারণ মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।অপ্রত্যাশিত এই সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মারিয়া ও তার পরিবার। মারিয়ার মা মিমি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মেয়ের কষ্টের কথা নিয়ে অনেক জায়গায় গিয়েছি, মানুষের কাছে ঘুরেছি। কিন্তু আজ ডিসি ম্যাডাম যেভাবে আমাদের কথা শুনলেন, সান্ত্বনা দিলেন আর নিজের হাতে সাহায্য করলেন, তা কোনো দিন ভুলব না। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখেন। আমার মেয়ের প্রতি এই মমতা আমাদের বেঁচে থাকার নতুন সাহস দিল।
জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ কার্যালয়ে উপস্থিত মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতি এমন সহমর্মিতা ও আন্তরিকতা জনপ্রশাসনের মানবিক রূপকেই সামনে নিয়ে আসে।
জারা ইসলাম / অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা