চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা-এ দিনদুপুরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ-কে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, সোমবার (১৫ জুন) বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, মুহাম্মদ জাকির (৪২) নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা দায়ের না হওয়ায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা একটি তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং যে কোনো সময় তারা গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা শোক কাটিয়ে উঠলে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাসুদ। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পাঁচজন অস্ত্রধারী সেখানে আসে। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে শর্টগান এবং তিনজনের হাতে পিস্তল ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই তারা মাসুদকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী-র ছোট ভাই। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply