শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট আজ সংসদে

অনলাইন ডেস্ক । বিপিসি বাংলা
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার

দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম বাজেট।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় কর কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্যও কিছু স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা ও প্রকল্প ঋণ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান মেগা প্রকল্প এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি এবং প্রণোদনা বাবদ আগামী অর্থবছরে ১ লাখ ১৭ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওপর ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাট থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা এবং আয়কর ও মূলধনী মুনাফা কর থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় আগামী অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার থেকে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি তৈরি হবে। এ ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকেই নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের ফলে কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির কারণে এসব পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা কাজুবাদাম, হিমায়িত মাছ, বিদেশি প্রসাধনী এবং এমএস রডের দামও বাড়তে পারে।

তবে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহ দিতে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ শিল্পের বিদ্যমান কর সুবিধাও বহাল রাখা হচ্ছে। এছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চাপ কমাতে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি কৃষিপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ব্যক্তি করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণা। প্রথম ধাপে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী বছরগুলোতে ধাপে ধাপে তা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জুলাই অভ্যুত্থানের গেজেটভুক্ত যোদ্ধাদের জন্যও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি করনীতি ও রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে করব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করা হবে। তবে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিশাল বাজেট ঘাটতি মোকাবিলাই আগামী অর্থবছরে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category