ধর্ষণ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের পক্ষে কেউ তদবির করলে তাকেও গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, কোনো ধর্ষণকারী বা মাদক কারবারির কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। এমনকি নিজ দলের নেতা হলেও ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি কাজে গাফিলতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় অফিসে আসেন উল্লেখ করে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদেরও সময়মতো দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি দপ্তরকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে, অন্যথায় জনভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর মাধ্যমে সেবা সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতের প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি জানান, অনেক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা যাচাই-বাছাই করে স্থগিত করা হয়েছে।
মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে মাদক পাচার হচ্ছে এবং কিছু মাদক কারবারি অল্প পরিমাণ মাদক বহন করে আইনি ফাঁকফোকর কাজে লাগাচ্ছে। এসব দমনে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের বাজেট জনকল্যাণমুখী, চিন্তাশীল ও সুদূরপ্রসারী। বিএনপি এই বাজেট নিয়ে কোনো আন্দোলন না করায় তিনি এটিকে জনগণের স্বার্থে গ্রহণযোগ্য বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পরে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সময়মতো অফিসে উপস্থিত না হলে জনগণের সেবা ব্যাহত হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আয়-ব্যয়ের সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের টাকায় দুর্নীতি বা অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
বাজেট ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করেন।
Leave a Reply