জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের দাবির প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং জনগণের রায়ের প্রতি তাদের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সংসদে যে বিষয়গুলোর সমাধান সম্ভব, তা সংসদেই হবে। তবে জনগণের দাবি উপেক্ষিত হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেও সেই দাবি আদায় করা হবে।
সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধী দল অংশ নেবে না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাই শুধুমাত্র সংশোধন নয়, প্রকৃত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বিবেচনা করা হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংশোধন একটি নিয়মিত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার বিষয়, যা বিল আকারে সংসদে আসতে পারে। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কারের জন্য পৃথক উদ্যোগ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে সরকার প্রস্তাব দিলে বিরোধী দল তা বিবেচনা করবে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোট, ব্যাংক খাতের সংকট, প্রবাসীদের সমস্যা এবং সীমান্তে পুশ-ইন ইস্যুসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা নোটিশ ও আলোচনা উত্থাপন করেছেন। বিশেষ করে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সীমান্তে পুশ-ইন ইস্যু নিয়ে আনা একটি নোটিশকে ‘সংবেদনশীল’ উল্লেখ করে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা অতীতের মতো ‘বগলদাবা বিরোধী দল’ হতে চান না। একইসঙ্গে অযৌক্তিক সংঘাতও সৃষ্টি করতে চান না। সংসদের ভেতরে জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, কোনো যৌক্তিক দাবি বা আলোচনার সুযোগ না পেলে বিরোধী দল ওয়াকআউট করতে পারে, তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হবে না। দেশের স্বার্থে একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মতবিনিময় সভায় সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাহিদ ইসলাম, রফিকুল ইসলাম খান এবং মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply