রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সরকার স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম-এর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী জানান, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর নর্দমা, বক্স কালভার্ট ও খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। এছাড়া ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধ এলাকাগুলো থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে পানি সরানো, বিদ্যমান পাম্প স্টেশন ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশন, ক্যাচপিট ও লোহার গ্রেটিং স্থাপন এবং পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা ব্লকেজ অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করে জলাবদ্ধতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। বিশেষ করে জিয়া সরণি খাল ও শ্যামপুর খালের পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য নতুন আউটলেট নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ড্রেন নির্মাণ এবং পুরোনো ড্রেন সংস্কারের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জিয়া সরণি খাল, কাজলা খাল, মৃধাবাড়ি খালসহ প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নবসংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় অধিকসংখ্যক আউটলেট ও নতুন পাম্প স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগের জন্য সমন্বিত ইউটিলিটি ডাক্ট নির্মাণ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply