হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে শেলু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ও সন্ধ্যায় উপজেলার আদিত্যপুর এবং আব্দাফৌজদা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত শেলু মিয়া আদিত্যপুর গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদিত্যপুর গ্রামের জাহিদ মিয়া এবং আব্দাফৌজদা গ্রামের মোশাহিদ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের রাস্তা ও জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকায় আবারও দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় শেলু মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে টহল জোরদার করেন।
বাহুবল থানার ওসি (তদন্ত) ইকতার মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a Reply