পল্টন থানার চাঞ্চল্যকর ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ মামলার এক নম্বর আসামি মো. কামরুল আহসান পাভেলকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
রবিবার (১৪ জুন) র্যাব-৩ ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন শিমরাইল, চট্টগ্রাম রোড এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, আসামি মো. কামরুল আহসান পাভেল পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার ভারিপাশা গ্রামের মো. শামসুল হকের ছেলে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন শিমরাইল চট্টগ্রাম রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহারে পাভেলকে ১ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, সৌদি আরবে পাভেলকে ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে অপহরণ ও মানবপাচারের মামলা করেন তার স্ত্রী পলি আক্তার। এরপর মামলার ভয় দেখিয়ে ‘ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল’ রিক্রুটিং এজেন্সিকে টার্গেট করে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা ও মামলার ধকল থেকে বাঁচতে এজেন্সিও তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। মামলার পর পুলিশের তদন্তে উঠে আসে এই ঘটনার পেছনে রয়েছে একটি চক্র। এই চক্র আরও একটি মামলা করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
মামলার নথিতে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল ‘ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাভেলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। পরে তার স্ত্রী পলি আক্তার লিজা অভিযোগ করেন, তার স্বামী মানবপাচারের শিকার এবং চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এমন অভিযোগে ওই বছরের ১৮ জুন তিনি র্যাব-৩-এ লিখিত অভিযোগ দেন। এর ভিত্তিতে র্যাব অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার ভিত্তিতে তাদের পল্টন থানায় সোপর্দ করা হয়।
পরে পলি আক্তার ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা দিলে মামলা আপস করতে রাজি হয়। উপায়ান্তর না দেখে ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল থেকে তাকে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর পলি আদালতে লিখিতভাবে জানান, তার স্বামী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। স্বামীর ফোন বন্ধ থাকায় তখন ভুল বোঝাবুঝি থেকে মামলা করেছিলেন। ফলে আসামিদের জামিনে মুক্তির বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই।
পলি আক্তারের মামলাটি ২০২২ সালেই শেষ হয়ে যায়। এর তিন বছরের মাথায় ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট ক্রিয়েটিভইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোনিয়া আক্তার নামে এক নারী পল্টন থানায় মোসাহেদ হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করতে যান। তার অভিযোগ, ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে তার স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠানোর পর সেখানে আটকে রেখে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
সোনিয়া আক্তারের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় পল্টন থানা প্রথমে মামলা নিতে চায়নি। পরে আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তিন বছর আগে পলি আক্তারের করা মামলার সঙ্গে সোনিয়া আক্তারের বর্ণনার মিল থাকায় তাদের দুজনের বিষয়ে খোঁজ নেয় পুলিশ। পরে ডিবির তদন্তে উভয়ের মধ্যে ফোনালাপের তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্ত ও পলি আক্তারের ফোন কল রেকর্ডে এটি স্পষ্ট যে, দুটি ঘটনাই ছিল সাজানো। মূলত এজেন্সির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে মামলা করা হয়।
Leave a Reply