শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

আইনি জটিলতায় আটকে ৮৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতি

অনলাইন ডেস্ক । বিপিসি বাংলা
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ৮ বার

দেশের শিক্ষা খাতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রায় ৮৭ হাজার শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শূন্য পদ পূরণে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি বিচারাধীন মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আরও ৪৭ হাজার শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮৭ হাজার পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তড়িঘড়ি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় নিয়োগপ্রাপ্তদের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি জানান, বর্তমানে ওই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আওতায় আনা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দমুখর ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষাক্রমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, পাঠ্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ, মিড-ডে মিল চালু এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। মোট জাতীয় বাজেটের প্রায় ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এত বরাদ্দের পরও শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল বা লার্নিং আউটকাম এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এছাড়া গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং ইউনিসেফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category