শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন

ভরা মৌসুমেও কক্সবাজারে পর্যটক খরা, শত কোটি টাকার লোকসানের শঙ্কা

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, (উখিয়া) কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ১৯ বার
দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কক্সবাজারে হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে পর্যটক খরা। ভরা মৌসুমেও সমুদ্রসৈকত, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আশানুরূপ পর্যটক না থাকায় উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে। দীর্ঘদিন পর এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায় ধস নামার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সাধারণত এ সময় কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, লাবণী পয়েন্ট, কলাতলী, সুগন্ধা, হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র। সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকা অনেকটাই ফাঁকা, পর্যটকদের উপস্থিতিও হাতে গোনা। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মানুষের ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা এ সংকটের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, গত দুই মাস ধরে কক্সবাজারে পর্যটক সংকট চলছে। পর্যটক কমে যাওয়ায় শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আসন্ন ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশা করছি।
কলাতলী সমুদ্রসৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজিজ বলেন, মে মাসের শুরু থেকেই পর্যটক অনেক কম। আমরা যারা ঋণ নিয়ে ছোট ব্যবসা করছি, তারা এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছি। শহরের তারকা মানের স্বপ্নীল সিন্ধু হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদনান শরিফ বলেন, এই সময়ে সাধারণত হোটেলগুলোতে বুকিংয়ের চাপ থাকে। কিন্তু এবার রুম বুকিং একেবারেই কম। অধিকাংশ সময় অলস বসে থাকতে হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, মৌসুমের মাঝামাঝি সময়েও এবার পর্যটক খরা চলছে। আগে সাপ্তাহিক ছুটিতে এত পর্যটক আসতেন যে অনেকে হোটেলে রুম না পেয়ে সৈকত কিংবা গাড়িতে রাত কাটাতেন। অথচ এবার শুক্রবারেও মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে।
অন্যদিকে, কম পর্যটকের সুযোগে কিছুটা স্বস্তিও পাচ্ছেন ভ্রমণকারীরা। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জিসান বলেন, এখন কক্সবাজারে পর্যটক অনেক কম। তবে হোটেলগুলোতে ভালো ছাড় পাওয়া যাচ্ছে, যা পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক।
এদিকে টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন। পর্যটকদের কোনো ধরনের হয়রানি বা সমস্যার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। তবে আসন্ন ঈদকে ঘিরে নতুন করে পর্যটকের ঢল নামার আশায় বুক বাঁধছেন সবাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category