রাজশাহীতে প্রশাসনের নির্ধারিত ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ উপেক্ষা করে অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দুর্গাপুর উপজেলা ও পুঠিয়া উপজেলা–এর বিভিন্ন বাগানে আগেভাগেই আম পাড়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কাঁচা আম সংগ্রহ করে গোপন স্থানে কেমিক্যাল দিয়ে পাকাচ্ছেন। পরে সেগুলো “রাজশাহীর আগাম পাকা আম” হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
জেলার সবচেয়ে বড় আমের বাজার বানেশ্বর হাট–এও ইতোমধ্যে আম উঠতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) পুঠিয়ার শিবপুর এলাকায় ভ্যানে করে আম নিয়ে যেতে দেখা যায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে। তিনি জানান, বাজারে বিক্রির জন্যই এসব আম নেওয়া হচ্ছে এবং এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আগেই তার কথা হয়েছে।
গত রোববার জেলা প্রশাসন চলতি মৌসুমের আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে গুটি আম, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানিপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি বাজারজাত করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর রাজশাহীতে প্রায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার টন।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহারা শারমিন লাবনী বলেন, প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া সম্পূর্ণ অবৈধ। অপরিপক্ব আম সংগ্রহ বা কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, বানেশ্বর হাটে ১৫ মে থেকে গুটি আম ওঠার কথা রয়েছে। আমে কেমিক্যাল মেশানো ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে বাজারে আম উঠছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply