রাজধানীর ফুটপাত দখল ও হকার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হকারদের বৈধতা দেওয়া, নির্দিষ্ট স্থানে বসার অনুমতি এবং পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে দুই সিটি করপোরেশন। তবে নগরবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এসব উদ্যোগ স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না।
রাজধানীর ফুটপাত ও হকার সমস্যা বহুদিনের। বিভিন্ন সময় মেয়র ও প্রশাসকদের নানা পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। এবার ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সংস্থাটি ফুটপাতের পাশাপাশি বিভিন্ন সংযোগ সড়কের মাঝখানে সাদা দাগ টেনে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করছে। গুলিস্তান ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন নিয়মিত এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
ডিএসসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব হকার ডিজিটাল পরিচয়পত্র পাবেন, তারা শুধুমাত্র নির্ধারিত স্থানেই ব্যবসা করতে পারবেন। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন অনেক হকার। তাদের অভিযোগ, অল্প জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এক হকার বলেন, ৫০ ইঞ্চি জায়গায় মালামাল রাখা, দাঁড়ানো ও বিক্রি করা একসঙ্গে সম্ভব নয়। খোলা আকাশের নিচে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে ফুটপাত ও সড়কে হকার বসানোর পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আশপাশের মার্কেট ব্যবসায়ীরাও। তাদের দাবি, এতে স্বাভাবিক ব্যবসা ব্যাহত হবে এবং যানজট ও চলাচলে ভোগান্তি আরও বাড়বে। এক ব্যবসায়ী বলেন, এলাকায় বহু মার্কেট রয়েছে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। সেখানে হকার বসানো হলে ব্যবসায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানের বাইরে কেউ বসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন হকারদের জন্য পুনর্বাসনের নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করেছে। কোরবানির ঈদের পর ফুটপাত ছেড়ে না দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংস্থাটি। ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে বসতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে আইনের প্রয়োগ করা হবে।
তবে নগরবিদদের মতে, সমস্যার মূল কারণ সমাধান ছাড়া শুধু স্থান নির্ধারণ বা পরিচয়পত্র দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে না। নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, পুরোনো পরিকল্পনাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করলেই সমাধান আসে না। পুরো নগর করিডোর পরিকল্পিতভাবে বিশ্লেষণ করে পথচারীদের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট এলাকায় হকারদের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই কার্যকর ও টেকসই সমাধানের জন্য প্রশাসন, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
Leave a Reply