কিশোরগঞ্জে অনার্স শেষ বর্ষের এক পরীক্ষার্থীর হিজাব পরা নিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা ৪০ মিনিট আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক প্রতিকার না পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর আইনজীবী মামা।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার কিশোরগঞ্জ শহরের পৌর মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ৩০ এপ্রিল সরকারি গুরুদয়াল কলেজের একটি হলে তার ‘মুদ্রা, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন’ বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিনের অভিযোগে বলা হয়, পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শাহ পরান দুই পরীক্ষার্থীকে হিজাব খুলে পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা করেন। এরপর সুমাইয়া আক্তার মহিলা শিক্ষক বা মহিলা পুলিশের উপস্থিতিতে হিজাব খোলার অনুরোধ জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরে তার পরীক্ষার খাতা ৪০ মিনিট আটকে রাখা হয়, যা তার পরীক্ষায় প্রভাব ফেলে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ওই শিক্ষক তাকে বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছেন, যার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভীত হয়ে পড়েছেন এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নিয়েও উদ্বিগ্ন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. শাহ পরান দাবি করেন, পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই এবং সম্ভাব্য ডিভাইস ব্যবহারের ঝুঁকি এড়াতেই নিয়ম অনুযায়ী হিজাব খোলার অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সুমাইয়া নিজেই হিজাব খুলেছিলেন এবং খাতা সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মতো আটকে রাখা হয়েছিল, যা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।
সরকারি গুরুদয়াল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিদ্দিক উল্লাহ জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে উকিল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় নিরাপত্তার স্বার্থে হিজাবের আড়ালে ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়টি নজরে রাখতে হয়, যা অনেক সময় বিতর্ক তৈরি করে।
এ ঘটনায় নোটিশে বলা হয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা চলছে।
Leave a Reply