নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক মোতাহার হোসেন খান সুফল ও আবু জাফর মোল্লাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম আল সোহাগ সাইফুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সুফল যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই। পুলিশের প্রতিবেদনে তাকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক এবং মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামি আবু জাফরকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সক্রিয় কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে টেকনিক্যালগামী অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাসটির পেছনের কয়েকটি সিট, ফ্যানসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। ওই সময় বাসে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী দ্রুত নেমে নিজেদের রক্ষা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে দারুসসালাম ও শাহ আলী মাজারের দিকে চলে যায়। অগ্নিসংযোগের শিকার বাসটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুফলের হুকুম ও প্ররোচনা এবং অন্য আসামিদের যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ অর্থের জোগান, কেউ ষড়যন্ত্র এবং কেউ সরাসরি ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর মডেল থানার ৬০ ফিট ভাঙ্গাব্রিজ এলাকা থেকে সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর এলাকা থেকে আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে সুফলের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে মিরপুর মডেল থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও মারামারিসহ বিভিন্ন ধারার অভিযোগ রয়েছে। একটি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায়ও সুফল এজাহারভুক্ত ও তদন্তে পাওয়া আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। জামিনে মুক্তি পেলে তারা পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা