শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর ঘিরে উৎসবমুখর জেলা: উন্নয়ন, উদ্বোধন ও প্রত্যাশার সমাহার

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, (উখিয়া) কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দিনব্যাপী এ সফরে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, রাজনৈতিক জনসভা এবং সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় সফর করে ঐতিহাসিক পাতলী খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন। তাঁর সেই স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আজও স্থানীয় জনগণের কাছে ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার স্মারক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর তিনি স্থানীয় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এ উপলক্ষে পিএমখালীসহ আশপাশের এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
পিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শামশুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর পিএমখালীবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর পিতার স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন ইতিহাসকে স্মরণ করছেন, অন্যদিকে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরও পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাঁর মতে, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় দুই লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজউল্লাহ জানান, তিনি ছোটবেলায় নিজ চোখে জিয়াউর রহমানকে পাতলী খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করতে দেখেছেন। ওই খালের কারণে পিএমখালী, ঝিলংজা ও খুরুশকুলসহ আশপাশের এলাকার কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল।
চেরাংঘাটা এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা নুরুল কবির (৮৩) স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর শৈশবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খালের কাজ দেখতে গিয়েছিলেন। তখন মানুষের মুখে মুখে ছিল জিয়াউর রহমানের নাম এবং তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান পিএমখালীতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে ছুরুত আলমসহ অনেকেই জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য পাতলী খাল এলাকায় ‘জিয়া স্মৃতি পার্ক’ নির্মাণের দাবি তুলেছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পাতলী খাল এলাকার জনসভা শেষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা একই সময়ে দেশব্যাপী শুরু হবে।
এরপর তিনি পেকুয়া উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা, মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় আয়োজিত রাজনৈতিক জনসভায় ভাষণ দেবেন। পরে তিনি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় কক্সবাজারের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে সাজসজ্জা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সফরের মাধ্যমে কক্সবাজারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
এদিকে জেলার উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।
কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আকতার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে জেলার উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং হাজারো শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবে।
জেলার সচেতন মহলের অভিমত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং কক্সবাজারের অবকাঠামো, শিক্ষা, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category