ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের কোনো ধরনের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ব্যবস্থা ও বিভিন্ন কার্যকর উপায় রয়েছে, যা প্রয়োগের মাধ্যমে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে। ফলে গ্রাহকরা যেকোনো সময় তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশ্বাস দেন।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ নিয়ে ওঠা অভিযোগ নাকচ করে গভর্নর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে নিয়োগ, বদলি বা পদোন্নতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।
তিনি জানান, ঈদের আগের দিন ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলে আইনগত প্রয়োজনের কারণে দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হয়। এরপর থেকেই একটি মহল ব্যাংকের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার বিষয়ে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ অনুপাত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এ হার ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে প্রায় ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দেবে বলেও তিনি জানান।
ব্যাংক খাতের সার্বিক সংস্কার প্রসঙ্গে মোস্তাকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বলতার কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি, তাই সমাধানেও সময় লাগবে। তবে ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ফেরত না পাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্যও আশার বার্তা দিয়েছেন গভর্নর। তিনি জানান, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানতের অর্থ ফেরত পাওয়ার পথ তৈরি হবে।
Leave a Reply