২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরাদ্দ ১৯৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরে সংস্থাটির জন্য বরাদ্দ ছিল ২০৩ কোটি টাকা। ফলে এবার দুদকের বাজেট ৬ কোটি টাকা কমেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, দুদকের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৭ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ১০ কোটি টাকা।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা দায়ের, চার্জশিট ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন এবং মামলা পরিচালনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমও চলবে।
এছাড়া অভিযোগ ও মামলা-সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্নীতির উৎস শনাক্তকরণ, গবেষণা, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দেশের সব জেলায় ১৩ সদস্যবিশিষ্ট মহানগর ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এবং উপজেলায় ৯ সদস্যবিশিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়েও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তরুণদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘সততা সংঘ’ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের সততা চর্চায় উৎসাহিত করতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্রেতাবিহীন ‘সততা স্টোর’ চালুর উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে।
দুদকের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে।
Leave a Reply