সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সমন্বয়ের উদ্যোগ দুর্নীতি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আসলেও মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তাই বর্তমান বাস্তবতায় বেতন সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষের অভাব-অনটন থাকলে দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। এ কারণে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনতে বেতন সমন্বয় প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, বেতন কাঠামো বাস্তবসম্মত হলে কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং দুর্নীতির প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কতসংখ্যক নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, স্বনিয়োজিত কর্মসংস্থান এবং দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করবে। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বড় বরাদ্দ দেওয়ার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষতা উন্নয়ন। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এজন্য সরকার দক্ষতা উন্নয়নকে বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply