প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। তবে সফর শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে বৃষ্টির সময়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদার কাজ শুরু না করায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তড়িঘড়ি করে সড়কে ইট বিছানো হয়। আনুষঙ্গিক কাজসহ এ বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, নিয়ম মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। যেহেতু সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাই পরে সেই ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি জানান, ইটগুলো ভাড়ায় আনা হয়েছিল, কিনে ব্যবহার করলে ব্যয় আরও বেশি হতো।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক কার্পেটিংয়ের জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্রের পর গত বছরের আগস্টে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও এখনো মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে ওই কাঁচা সড়কে দ্রুত ইট বিছানোর কাজ শুরু হয়। সফর শেষে স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে সেই ইট আবার তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাস্তা কিছুটা চলাচলযোগ্য হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু ইট সরিয়ে নেওয়ার পর আবারও দুর্ভোগ শুরু হয়েছে।
গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, সড়কটির পাকাকরণের কাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে সড়কের পাশে প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। ভূমি ও সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সাময়িকভাবে ইট বিছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সুশাসনের জন্য প্রশাসন (সুপ্র) বগুড়ার সম্পাদক কে জী এম ফারুক বলেন, একটি সড়কের উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ ও দরপত্র সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে নতুন করে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করা যৌক্তিক নয়। শুধুমাত্র উচ্চপর্যায়ের সফর উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং পরে তা তুলে নেওয়ার ঘটনায় সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।