নেত্রকোনার আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকার সাভারে নিজ বাড়িতে অবস্থান করে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন, ফলে খাদ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইমরান হোসেনের মূল কর্মস্থল আটপাড়া উপজেলা। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি কেন্দুয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বও পালন করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকার সাভারে অবস্থান করেন এবং মাঝে মধ্যে এসে আটপাড়া ডাকবাংলোয় থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর আগেই গত ২৩ মে অফিস শেষে তিনি সাভারে চলে যান। যদিও সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৬ মে। ফলে ছুটির আগের তিন কর্মদিবসে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার পরও তিনি পুরো সপ্তাহ কর্মস্থলে ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য দুই উপজেলায় সরকার নির্ধারিত ভর্তুকিমূল্যের ওএমএস কার্যক্রম এবং ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রমে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর ও তদারকি প্রয়োজন হয়। অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ব্যাহত হচ্ছে এবং অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন্দুয়া ও আটপাড়া খাদ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঢাকায় বসবাস করে নিয়মিতভাবে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করা বাস্তবে কঠিন। অনেক সময় জরুরি নথিপত্রে পরে এসে একসঙ্গে স্বাক্ষর করা হয়, যা অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ইমরান হোসেন বলেন, ঈদের আগে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি বাড়ি গিয়েছিলেন এবং ঈদের পরও কয়েকদিন অফিসে এসেছেন। অসুস্থতার কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে খাদ্য বিভাগের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।