অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা–সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। একই সঙ্গে ১০টি বৈঠকে বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
বুধবার দুপুরে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কারণে সময়মতো দেশে টিকা আসেনি বলে ইউনিসেফ মনে করে।
তিনি জানান, ভালো খবর হলো—দেশে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু ইতিমধ্যে হামের টিকা পেয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে টিকা–সংকটের কারণ, সংকট মোকাবিলায় ইউনিসেফের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, সরকার চাইলে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে টিকা ক্রয় করতে পারে, তবে এতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। অন্যদিকে ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব।
তিনি টিকা মজুত সবসময় নিশ্চিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, টিকা সংকট ও হামে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারের উদ্যোগকে ইউনিসেফ স্বাগত জানায় এবং প্রয়োজনে তারা তদন্তে সহায়তা করবে।
দেশে চলতি বছরে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন তথ্যেও উঠে এসেছে। এর আগে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া বিষয়টি নিয়ে সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
Leave a Reply