শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

বরগুনায় দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট

অনলাইন ডেস্ক । বিপিসি বাংলা
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৩৩ বার

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চারদিকে নদী, খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ জলরাশি থাকা সত্ত্বেও এই উপকূলীয় জনপদে এখন নিরাপদ পানির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, পানি আছে কিন্তু খাওয়ার উপযোগী পানি নেই।

প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের এই উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির সংকট এখন আর শুধু মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা নিরাপদ পানির সন্ধানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কোথাও আধা কিলোমিটার, কোথাও দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

বিষখালী ও বলেশ্বর নদবেষ্টিত এই এলাকায় একসময় পুকুর, দিঘি ও খাল ছিল পানির প্রধান উৎস। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের বড় অংশ পার করতেন স্থানীয়রা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

উপজেলার অন্তত পঁচিশ থেকে ত্রিশটি এলাকায় এখন তীব্র পানির সংকট রয়েছে। আরও পঁচিশ থেকে ত্রিশটি এলাকায় মাঝারি মাত্রার সংকট বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে লবণের সহনীয় মাত্রা ছয়শ পিপিএম হলেও পাথরঘাটার অনেক স্থানে তা তিন হাজার পিপিএম ছাড়িয়ে গেছে। ভূগর্ভে পাথরের স্তর থাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনও অনেক জায়গায় সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পুকুর ও নলকূপের পানিতে লবণ এতটাই বেড়ে যায় যে তা পান করা তো দূরের কথা, রান্নার কাজেও ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আংশিক লবণাক্ত বা দূষিত পানি ব্যবহার করছে। এতে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা পানিবাহিত রোগ বাড়ছে।

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এলাকায় দুই শতাধিক নলকূপ, শতাধিক সোলার পিএসএফ এবং কয়েক হাজার পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুকুর খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। অনেক এলাকায় একটি মাত্র ফিল্টারের ওপর কয়েক হাজার মানুষ নির্ভর করছেন।

গহরপুর এলাকার জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের এলাকায় নলকূপ বসালেও লবণ পানি ওঠে। একটি ফিল্টারের ওপর হাজারো মানুষ নির্ভর করে। শুকনো মৌসুমে সেটিও অকেজো হয়ে যায়।

পদ্মা গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করলেও তা দীর্ঘদিন রাখা যায় না। নলকূপের পানি লবণাক্ত হওয়ায় শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

রূহিতা গ্রামের আব্দুল হামিদ খান বলেন, গভীর নলকূপ বসাতে গেলে পাথরে বাধা পড়ে। কিছু ফিল্টার থাকলেও তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং পরে আর মেরামত করা হয় না।

স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সুপেয় পানির সংকট স্থায়ীভাবে সমাধান করা যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category